দেশে সৌরবিদ্যুতের উৎপাদন বাড়াতে পাঁচটি মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন ৪৬ হাজার ৮৫৪টি প্রতিষ্ঠানে প্রায় দেড় হাজার মেগাওয়াট রুফটফ সোলার প্রকল্প করবে অন্তর্বর্তী সরকার। এরই মধ্যে এসব প্রকল্পের জন্য ছয়টি বিতরণ কোম্পানির আওতায় দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। চলতি বছরের ডিসেম্বরের আগেই এসব প্রকল্পের কাজ শুরু হবে। আর এসব প্রকল্পে স্বল্পসুদে আর্থিক সহযোগিতা দেবে বাংলাদেশ ব্যাংক। সেই সঙ্গে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোও রুফটপ সোলারের বিভিন্ন মডেলে অর্থায়ন করবে।
বিদ্যুৎ ভবনে গতকাল (মঙ্গলবার) বিদ্যুৎ বিভাগের সঙ্গে একটি মন্ত্রণালয় ও চারটি মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন বিভাগের এ-সংক্রান্ত এক সমঝোতা সই হয়েছে। চারটি মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন এ বিভাগগুলো হলো স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ এবং মহিলা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগ। আর সমঝোতা সই করা মন্ত্রণালয়টি হলো প্রাথমিক ও গণশিক্ষা।
এ সমঝোতার আওতায় জাতীয় রুফটপ সোলার কর্মসূচির উদ্যোগে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও স্বাস্থ্য স্থাপনায় যেমন স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও হাসপাতালে ওপেক্স মডেলে বিনিয়োগ হবে। এতে প্রতিষ্ঠানগুলোর কোনো ব্যয় বহন করতে হবে না। বরং প্রতিষ্ঠানগুলো উৎপাদিত বিদ্যুৎ ব্যবহার করার পাশাপাশি উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করে বিদ্যুৎ বিল সাশ্রয় করবে।
সমঝোতা সই অনুষ্ঠানে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান জানান, বাংলাদেশের সব সরকারি প্রতিষ্ঠান সরকারের অর্থায়নে নিজস্ব ভবনের ছাদে (ভাড়া করা স্থাপনা ব্যতীত) সোলার প্যানেল স্থাপন করবে। তবে সরকার নিয়ন্ত্রিত যেসব প্রতিষ্ঠান/কোম্পানির নিজস্ব আয় আছে, তারা নিজ উদ্যোগে নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানে রুফটপ সোলার সিস্টেম স্থাপন করবে এবং নিয়ন্ত্রণকারী মন্ত্রণালয় ও বিদ্যুৎ বিভাগকে অবহিত করবে। এরই মধ্যে মন্ত্রণালয়গুলো থেকে প্রস্তাব আসা শুরু হয়েছে। এসব প্রস্তাব বিদ্যুৎ বিভাগ যাচাই করে অর্থ মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করছে। বাস্তবায়ন কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
উপদেষ্টা বলেন, ‘নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে পারলে আমাদের বিদ্যুতের ওপর থেকে চাপ কমে আসবে। এলএনজি আমদানি কম করতে হবে। বিদ্যুৎ ব্যবহারের সুদিন ফিরে আসবে। সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার আওতায় সারা দেশে দুই থেকে তিন হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।’
নবায়নযোগ্য জ্বালানি নীতিমালা ২০২৫ অনুযায়ী সরকার ২০৩০ সালের মধ্যে মোট বিদ্যুৎ চাহিদার ২০ শতাংশ ও ২০৪০ সালের মধ্যে ৩০ শতাংশ এ উৎস থেকে পূরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে ‘জাতীয় রুফটপ সোলার কর্মসূচি’ প্রণয়ন করা হয়েছে, যা চলতি বছরের ২৯ জুন উপদেষ্টা পরিষদের সভায় অনুমোদিত হয়।
গতকালের অনুষ্ঠানে জানানো হয়, এলটিএমের মাধ্যমে ক্রয়াদেশ প্রদানে উপযুক্ত ইপিসি ঠিকাদার নির্বাচনের জন্য এরই মধ্যে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের মাধ্যমে তালিকা প্রণয়ন করা হয়েছে। নিম্নমানের মালামাল পরিহারে এরই মধ্যে কারিগরি স্পেসিফিকেশন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে আরো জানানো হয়, প্রত্যেক মন্ত্রণালয়/বিভাগ থেকে একজন করে ফোকাল পয়েন্ট কর্মকর্তা এ কর্মসূচির বাস্তবায়নকাজ সমন্বয় করছেন। প্রতি জেলার ১১ জন নিয়ে মোট ৭৭৯ জন কর্মকর্তাকে এরই মধ্যে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে যেন তারা নিজ জেলায় এ কার্যক্রম সফলভাবে বাস্তবায়ন করতে পারেন।
বিদ্যুৎ বিভাগের সচিব ফারজানা মমতাজ এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব মো. সাইদুর রহমান গতকালের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।